বিআরটি এর পটভূমি

Image
dummy

ঢাকা বিআরটি

(বিআরটি, গাজীপুর – বিমানবন্দর)

জাতিসঙ্ঘের মানব উন্নয়ন সূচক অনুযায়ী ১৬৯টি সদস্য দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৯তম এবং ’ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট’-র বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা সূচকে ঢাকা বরাবরের মত বিশ্বের সবচেয়ে বাস-অযোগ্য শহরগুলোর অন্যতম হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। এ শহরের যানজট এবং বায়ুদূষণকেই এ অবস্থানের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৃহত্তর ঢাকা বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল মেগাসিটিগুলোর অন্যতম। গত ১০ বছরে এর জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ২০১২ সালের ১.২ কোটি থেকে বেড়ে ২০২০ সালের শেষ নাগাদ ২.০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে, যা এটিকে বিশ্বের বৃহত্তম মেগাসিটিগুলোর কাতারে নিয়ে যাবে। ঢাকার মূল অংশে বা সেন্ট্রাল বিজিনেস ডিসট্রিক্টে (CBD) তে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৪৫,০০০ জনসংখ্যা নিয়ে এটি বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরও বটে। নগরের ভূ-প্রকৃতির কারণে সীমিত বাসযোগ্য জমিতে উচ্চমাত্রার ঘনত্ব, অপরিমিত এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো এবং জনসেবার নিম্নমান ও নগর পরিবহনে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে এখানে প্রতিনিয়ত মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থা নিরসন করে বৃহত্তর ঢাকার জন্য একটি দক্ষ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে অতি দ্রুত এ বিষয়ে যথাযথ এবং প্রবিধানমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহত্তর ঢাকার সুবিধাজনক একটি করিডোরে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্দেশ্যে পরামর্শদাতাগণের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তের ৬টি প্রধান করিডোর বিশ্লেষণ করা হয়। সে অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার উত্তর অংশে, নগর উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা এবং গণপরিবহন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সুবিধাজনক হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এয়ারপোর্ট- গাজীপুর করিডোরটি বিআরটি সিস্টেম বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারণ করা হয়।

এখানে উল্লেখ্য যে, সরকারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী গাজীপুর-টঙ্গী এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষ। তবে গার্মেন্ট শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র হওয়াতে এখানে অসংখ্য গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি গড়ে উঠেছে। ফলশ্রুতিতে স্থানীয় নাগরিকদের বাইরেও এখানে বিপুল সংখ্যক গার্মেন্ট কর্মী বসবাস করে আসছে। বিআরটি করিডোরের আশেপাশে প্রায় ২৭২টি গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে যেখানে আনুমানিক ১০ লক্ষ কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। ফলে দিন দিন এ করিডোরে মোটর যান চলাচলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সাথে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যাও দিন দিন বেড়ে চলেছে। সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে যে, টঙ্গী-গাজীপুর সড়কে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে ৫০% এর অধিক সংখ্যকই পথচারী।

ঢাকা শহরে গণপরিবহনের সংখ্যা অপ্রতুল, বিশৃঙ্খল এবং নিম্নমানের। প্রকল্পের প্রস্তাবিত এ করিডোর এলাকায় ৬০টিরও বেশি রুটে বেসরকারী অপারেটরদের দ্বারা ২৫০০-এর বেশি বাস ও মিনিবাস পরিচালনা করা হচ্ছে। বাসবহরের বাসগুলোর অধিকাংশই ব্যবহার অনুপযোগী ও ভগ্নদশাগ্রস্থ এবং এ করিডোরে মাত্র অল্প কয়েকটি সজ্জিত বাসস্টপ রয়েছে। তবে তাতে বাসের ভ্রমনের সময়সূচী বা অন্য কোন তথ্য থাকে না। আধুনিক কোন ব্যবস্থা ও টিকেটিং পদ্ধতিও গড়ে উঠেনি।

প্রকল্পের উদ্দেশ্যঃ প্রকল্পটি, গাজীপুর-টঙ্গী-উত্তরা-বিমানবন্দর করিডোরে ২০ কিলোমিটার বিআরটি লাইন নির্মানের মাধ্যমে দক্ষ, ব্যয় সাশ্রয়ী, পরিবেশ বান্ধব, আধুনিক, টেকসই এবং নিরাপদ নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। যেহেতু বাংলাদেশে এখনো কোন আধুনিক ও দ্রুতগামী গণ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি তাই এ পাইলট প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সমন্বিত চলাচল ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এটি সার্বিক সমাধান ও দিক নির্দেশনা প্রদান করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

লিঙ্কেজঃ প্রস্তাবিত প্রকল্পটি জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমিত করতে, জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার করার ক্ষেত্রে নগরায়ন এবং নগর অবকাঠামো উন্নীতকরণে বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকারে বিশেষ অবদান রাখবে। এটি ২০০৮ সালে সরকার অনুমোদিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার সুপারিশ অনুযায়ী এডিবি-র ’সাসটেইনেবল ট্রান্সপোর্ট ইনিশিয়েটিভ অপারেশনাল প্ল্যান’-এ বর্ণিত নগর পরিবহনের উপর গুরুত্বের সাথে ভালভাবে সমন্বয় করে প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রকল্পটি, নগর পরিবহন খাতে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী কর্তৃক গৃহীত প্রকল্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় নিশ্চিত করবে। এ করিডোরটি পরবর্তীতে বিশ্বব্যাঙ্কের সহায়তায় বাস্তবায়িতব্য এয়ারপোর্ট-কেরানীগঞ্জ করিডোরের সাথে সংযুক্ত হবে, সেক্ষেত্রে এটি গাজীপুর থেকে ঢাকা শহরকেন্দ্র ছাড়িয়ে কেরানীগঞ্জ অবধি ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ গণ পরিবহন করিডোর হিসেবে পরিচালিত হবে। সেজন্য উভয় প্রকল্পের কারিগরি, পরিচালনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়াবলীর পূর্ণ সমন্বয় সাধন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সহজতর প্রাতিষ্ঠানিক এবং কারিগরি সুবিধার কারণে করিডোরের এডিবি অংশটি প্রথমে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা পরবর্তীতে বিশ্বব্যাঙ্ক অংশটির বাস্তবায়ন সহজতর করবে। জাইকা-র অর্থায়নে উত্তরা- মতিঝিল করিডোরে বাস্তবায়নাধীন মেট্রোরেলের (এমআরটি লাইন-৬) প্রকল্পের সাথেও এটির নিবিড় সমন্বয় থাকবে।ফলশ্রুতিতে ঢাকার নগর পরিবহণ খাতের ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের নিমিত্তে বিশেষতঃ দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অর্জনে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পের আউটপুট ১: টঙ্গী-গাজীপুর এলাকার মূল নগর পরিবহন করিডোর পূনর্বিন্যাসের নিমিত্তে - ক) আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুসরণ করে একটি ২০ কিলোমিটার বিআরটি রূট ডিজাইন এবং নির্মান; খ) বিআরটি লাইন বরাবর উভয়দিকে দুইটি করে মিক্সড ট্রাফিক লেইন, একটি করে অযান্ত্রিক ট্রাফিক লেইন এবং ফুটপাত নির্মান; গ) অযান্ত্রিক যানবাহনের সুবিধার্থে ১৪১টি ফিডার রোডের উন্নয়ন; ঘ) পূনর্বিন্যস্ত করিডোর বরাবর একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেনেজ সিস্টেম নির্মান; এবং ঙ) গাজীপুরে বিটিসিএল-এর জমিতে ওয়াশিং, সার্ভিসিং এবং মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং পার্কিং ইত্যাদির জন্য একটি বিআরটি ডিপো নির্মান।

প্রকল্পের আউটপুট ২: বেসরকারী খাতের সঙ্গে দক্ষতার সাথে বিআরটি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন সংক্রান্ত কর্মকান্ড, যেমনঃ ক) নির্মানকালীন সময়ে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যতে বিআরটি কার্যক্রম নজরদারীর জন্য একটি বিশেষায়িত প্রকল্প সংস্থা (এসপিও) তৈরি করা; খ) এসপিও ও বেসরকারী অপারেটরদের জন্য সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্যোগ নেয়া; গ) বিআরটি সিস্টেমের জন্য ভবিষ্যত কার্যক্রম এবং বিজনেস মডেল ডিজাইন করা; ঘ) বিআরটি পরিচালনার জন্য বিদ্যমান বাস কোম্পানিগুলোর সাথে আলোচনা করা এবং একীভূতকরণে সহায়তা করা; ঙ) যেসকল বাস অপারেটর বিআরটি-তে অংশগ্রহণ করবে না তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ব্যবহৃত বাসবহর ব্যবহারের অযোগ্য ঘোষণা; চ) ৫০টি আর্টিকুলেটেড বাস সংগ্রহ এবং নির্বাচিত বেসরকারী বাস অপারেটিং কোম্পানিগুলোকে লীজ দেয়া; ছ) বিআরটি-র জন্য টিকেটিং এবং ভাড়া সংগ্রহ পদ্ধতিসহ ইনটেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস) সংগ্রহ এবং স্থাপন করা; জ) বাসচালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং অপারেশন শুরু করার আগে বিআরটি সিস্টেমের পরীক্ষা করা।

প্রকল্পের আউটপুট ৩: করিডোর সংলগ্ন এলাকার নগর মান উন্নয়নের জন্য ক) করিডোরে ১০০০ জ্বালানী-সাশ্রয়ী সড়ক বাতি ক্রয় ও স্থাপন; খ) স্থানীয় বাজারের অবকাঠামোর ছোটখাটো উন্নয়ন; গ) গাড়ির ধুম্র নির্গমন মান সংশোধন ও প্রয়োগ; ঘ) ট্রাফিক পুলিশের জন্য ধুম্র নির্গমন পরীক্ষার সরঞ্জামাদি সংগ্রহ; এবং ঙ) ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পদক্ষেপ, যেমন: (১) ট্রাফিক পুলিশের জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মসূচি পরিচালনা, (২) প্রধান মোড়গুলিতে বিআরটি-প্রায়োরিটি ট্র্যাফিক লাইট এবং ১৫০ টি ক্লোজ-সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরা সংগ্রহ ও স্থাপন, (৩) পার্কিং ও হকার নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন এবং (৪) 'যথাযথ ট্রাফিক আচরণ’ সম্পর্কে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো।

করিডোরের বিভিন্ন ইন্টারসেকশানে বিশৃঙ্খলা এবং দীর্ঘস্থায়ী যানজট এড়ানোর লক্ষ্যে জয়দেবপুর চৌরাস্তাসহ ৬টি ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আবদুল্লাহপুরে র‌্যাম্পসহ ১০ লেনের টঙ্গী সেতুসহ চেরাগ আলী পর্যন্ত ৪.৫ কিলোমিটার এলিভেটেড অংশ থাকবে। ডেডিকেটেড বাস লেনটি রাস্তার মাঝখানের ২টি লেন ব্যবহৃত হবে এবং যেখানে দ্রুত গতি সম্পন্ন আর্টিকুলেটেড বাস চলাচল করবে। এছাড়াও গার্মেন্টস শ্রমিক ও পথচারীদের সহজে চলাচলের জন্য রাস্তার দুপাশে ফুটপাতও তৈরি করা হবে।

প্রকল্পের যৌক্তিকতাঃ ২০০৫ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রণীত ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পের আওতায় ঢাকা মহানগরীর জন্য স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্লান (এসটিপি) প্রস্তুত করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে জাইকা কর্তৃক তা সংশোধন করা হলে সরকার কর্তৃক সেটি সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি) হিসেবে অনুমোদিত হয় এবং এটিই নগর পরিবহন পরিকল্পনার বর্তমান ভিত্তি হিসাবে কাজ করেছে। আরএসটিপি-তে বৃহত্তর ঢাকার পরিবহণ খাতে যথাযথ বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং বিআরটি লাইন-৩ সহ তিনটি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) রুট নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে। ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক ডেভলপমেন্ট স্টাডিতেও (কেইআই, জাইকা, ২০১০) বিআরটি লাইন -৩ নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে। অযান্ত্রিক যান চলাচল, পথচারী কর্তৃক যত্রতত্র রাস্তা পারাপারের পাশাপাশি উচ্চমাত্রার ট্র্যাফিক প্রবাহের কারণে দেশের উত্তরাংশ থেকে ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে চিহ্নিত গাজীপুর-এয়ারপোর্ট করিডোরে প্রায়শই মারাত্মক এবং দীর্ঘস্থায়ী যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া সড়কের পূর্ব এবং পশ্চিম উভয় অংশের মধ্যে সংযোগেরও অপ্রতুলতা রয়েছে। সড়কের পাশে মূলত আরএমজি কারখানাসহ শিল্প কারখানা বেড়ে চলেছে। এরই প্রেক্ষাপটে এডিবি একটি টিএ প্রকল্পের আওতায় সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে ছয়টি প্রস্তাবিত করিডোরের মধ্য হতে গাজীপুর-টঙ্গী-বিমানবন্দর রুটটি (বিআরটি লাইন -৩ এর অংশ) বিআরটি বাস্তবায়নের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং বাস্তবসম্মত করিডোর হিসেবে নির্ধারণ করেছে।

উল্লেখ্য যে, ভৌত প্রতিবন্ধকতা এবং সড়কের উভয় পাশে নির্মিত অবকাঠামোর কারণে এ রাস্তাটি প্রয়োজন অনুযায়ী আরও প্রশস্ত করার অবকাশ নেই। তাছাড়া রেলভিত্তিক গনপরিবহন ব্যবস্থা নির্মাণ এবং বাস্তবায়ন, বিআরটি এর চেয়ে প্রায় ১০ গুন বেশী ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। তাই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে দ্রুত সময়ে এবং স্বল্প ব্যয়ে একমাত্র বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করেই এ রাস্তার যানজট নিরসন করা সম্ভব হতে পারে।

প্রকল্পের সাংগঠনিক কাঠামো

 

 

প্রকল্পের অর্থায়ন

•   এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (এডিবি) :    ১৬ কোটি মার্কিন ডলার
•   ফরাসী উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি) :    ৪.৫ কোটি মার্কিন ডলার
•  বাংলাদেশ সরকার :    ৪.৫ কোটি মার্কিন ডলার
•  গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি :    ৪৬ লক্ষ মার্কিন ডলার
   

বাস্তবায়নকারী সংস্থা

১. সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) 

২. বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)

৩. স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)

৪. বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান – ঢাকা বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানী লিমিটেড (ডিবিআরটিসিএল)

 

পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানসমূহ

১. প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, কোঅর্ডিনেশন এন্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং (পিএমসিসিবি)

  • প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় এবং সক্ষমতা তৈরি, ক্রয় সহায়তা/যোগাযোগ, জন অংশগ্রহণ

২. ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট এবং নির্মান ব্যবস্থাপনা (ইপিসিএম)

  • ডিজাইন, সংগ্রহ, নির্মান, তত্বাবধায়ন এবং চুক্তি ব্যবস্থাপনা

৩. অপারেশনাল ডিজাইন এন্ড বিজনেস মডেল (ওডিবিএম)

  • বিআরটি পরিচালন পরিকল্পনা, বিজনেস মডেল, পরিষেবা সূচনা, বাস স্পেসিফিকেশন, বাস অপারেটরদের সাথে আলোচনা

৪. কিশ্চিয়ান কমিশন ফর দ্য ডেভেলপমেন্ট অব বাংলাদেশ (সিসিডিবি)

  • প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ  

প্রকল্প কম্পোনেন্টসমূহ

সওজ কম্পোনেন্টসমূহ

১. জয়দেবপুরে বিআরটি লেন; মিক্সড ট্রাফিক লেন; এন.এম.টি লেন; ফুটপাত; ড্রেনেজ ও ৬টি ফ্লাাইওভার নির্মাণসহ ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডোরের পেভমেন্ট উন্নয়ন এবং প্রশস্তকরণ [চেইনেজ ০+০০০ থেকে ২+৬০০ এবং চেইনেজ ৭+১০০ থেকে ২০+২০০]

বিবিএ কম্পোনেন্টসমূহ

২. তুরাগ নদীর উপর ১০ লেনবিশিষ্ট টঙ্গী ব্রীজ এবং ৬টি এলিভেটেড স্টেশনসহ ৪.৫ কিলোমিটার এলিভেটেড সেকশন নির্মান [চেইনেজ ২+৬০০ থেকে ৭+১০০]
৩. বিআরটি লেন, মিক্সড ট্রাফিক লেন, এনএমটি লেন, ফুটপাত এবং ড্রেনেজসহ ৪.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডোরের পেভমেন্ট উন্নয়ন এবং প্রশস্তকরণ

এলজিইডি কম্পোনেন্টসমূহ

৪. গাজীপুরে বিটিসিএল-এর জমিতে বিআরটি ডিপো নির্মান
৫. ১০টি কিচেন মার্কেট নির্মান
৬. বিআরটি করিডোরের উভয়পাশে ১৪১টি এক্সেস রোডের উন্নয়ন
৭. গাজীপুর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত প্রস্তাবিত করিডোর বরাবর ১০০০টি জ্বালানী সাশ্রয়ী সড়ক বাতি স্থাপন

এসপিও, বিআরটি কোম্পানী কম্পোনেন্টসমূহ

৮. ৫০টি আর্টিকুলেটেড বাস ক্রয়
৯. বিআরটি পরিচালনার জন্য আইটিএস সরঞ্জামাদি ক্রয়
১০. ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের ট্রাফিক সিগনাল সিস্টেম এবং সরঞ্জামাদি ক্রয়
১১. বিদ্যমান বাস অপারেটরদের সাথে আলোচনা এবং বিআরটি বাস অপারেটর নির্বাচন

এক নজরে জিডিএসইউটিপি (বিআরটি বিমানবন্দর – গাজীপুর)

প্রকল্পের নাম : গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (বিআরটি বিমানবন্দর - গাজীপুর)
বিভাগ : সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ
মন্ত্রণালয় : সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়
বাস্তবায়নকারী সংস্থাসমূহ : সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)
মেয়াদ : ডিসেম্বর ২০১২ – ডিসেম্বর ২০১৮
অনুমোদিত বর্ধিত মেয়াদ : ডিসেম্বর ২০১২ – জুন ২০২০
প্রকল্প ব্যয় : ২০৩৯.৮৫ কোটি টাকা
  : বাংলাদেশ সরকার :    ৪৩৪.৫৮ কোটি টাকা
  : প্রকল্প সহায়তা       : ১৬৫০.৭০ কোটি টাকা
প্রকল্প অর্থায়নকারী : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
  : এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (এডিবি)
  : ফরাসী উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি)
  : গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)
দৈর্ঘ্য : ২০.২০ কিলোমিটার
  : ভূমিতে         : ১৫.০৭ কিলোমিটার
এলিভেটেড :    ৪.৫০ কিলোমিটার
স্টেশন : ২৫টি
বাস ডিপো : ১টি (গাজীপুর)
টার্মিনাল : ২টি (বিমানবন্দর ও গাজীপুর)
ফ্লাইওভার : ৬টি (বিমানবন্দর, জসিমুদ্দীন, কুনিয়া, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভোগরা এবং জয়দেবপুর চৌরাস্তা)
ব্রীজ : ১টি (টঙ্গী ব্রীজকে ১০ লেনে উন্নীতকরণ)
কিচেন মার্কেট : ৮টি
এক্মেস রোড : ১১৩টি (৫৬ কিলোমিটার)
উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নর্দমা : উভয় পাশে ২৪ কিলোমিটার
ফুটপাত : উভয় পাশে ২০.২ কিলোমিটার
ভ্রমণ সময় : ৫০ মিনিট (গাজীপুর - এয়ারপোর্ট)
বাস ফ্রিকোয়েন্সী : ২ থেকে ৫ মিনিট