এফএকিউ গুলি

১. বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট বলতে কি বোঝায়?

বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম একটি বাস ভিত্তিক উন্নতমানের আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা যার মাধ্যমে যাত্রীগণ দ্রুততার সাথে নিরাপদে, আরামদায়কভাবে এবং সাশ্রয়ীমূল্যে গন্তব্যে পৌছাতে পারে। এ ব্যবস্থায় সাধারণত উচ্চধারণক্ষমতাসম্পন্ন বাসগুলো নিরবিছিন্ন এবং নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য রাস্তার মাঝ বরাবর ডেডিকেটেড লেন ব্যবহার করে থাকে। ফলশ্রুতিতে এ বাসগুলো যানজট এড়িয়ে সাধারণ বাসের তুলনায় দ্রুততার সাথে গন্তব্যে পৌছাতে পারে।

এ ব্যবস্থায় যাত্রীদেরকে বাসে আরোহণের পূর্বেই ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে টিকেট সংগ্রহ করে অটোম্যাটিক গেটের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্ম বা ষ্টেশনে প্রবেশ করতে হবে।

২. বিআরটি (গাজীপুর - এয়ারপোর্ট) অংশের রুটটি কোনটি?

৩. এ বিআরটি সিস্টেম কি অন্য কোন রুটে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে?

হ্যাঁ; পরবর্তীতে এয়ারপোর্ট ষ্টেশন হতে বনানী, মহাখালী, তেজগাঁও, মগবাজার, গুলিস্তান হয়ে কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

৪. এ বিআরটি বাসগুলো কোথায় থামবে?

এ বাসগুলো ৭০০-৮০০ মিটার অন্তর অন্তর নিম্নে বর্ণিত ২৫টি নির্ধারিত ষ্টেশনে থামেবে।

এয়ারপোর্ট ষ্টেশন, জসীমউদ্দিন সরণী, আজমপুর ষ্টেশন, হাউজ বিল্ডিং, আব্দুল্লাহপুর ষ্টেশন, ইজতেমা মাঠের প্রথম গেট, ষ্টেশন রোড, মিল গেট, চেরাগ আলী মার্কেট, টঙ্গী কলেজ, হুসাইন মার্কেট, গাজিপুরা, তারগাছ, বড়বাড়ি বাজার, বোর্ড বাজার, ওপেন ইউনিভার্সিটি, হাজী পুকুর, মালেকের বাড়ি, ভোগরা (দক্ষিণ), ভোগরা (উত্তর), চৌরাস্তা, বিআরটি ডিপো, আড়ং মিল্ক ফ্যাক্টরি, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর টার্মিনাল।

৫. বিআরটি বাসে কিভাবে আরোহণ করবো?

বিআরটি ষ্টেশনগুলো সাধারণত রাস্তার মাঝে নির্মিত হবে। ষ্টেশনে ঢোকার জন্য ফুটওভার ব্রীজ বা জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করতে হবে।

৬. আমি কিভাবে রাস্তা পারাপার করবো?

সিগন্যালিং ব্যবস্থা সম্বলিত জেব্রাক্রসিং ও ফুটওভার ব্রীজ ব্যবহার করে রাস্তা পারাপার হওয়া যাবে।

৭. বিআরটি টিকেটের মূল্য কত হবে বা মূল্য কি খুব বেশী হবে?

টিকেটের মূল্য এবং সুনির্দিষ্ট ভাড়া আদায়ের পদ্ধতি এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে। ভাড়া আদায়ের জন্য সার্বজনীন ব্যবহারযোগ্য স্মার্ট কার্ড ব্যবহারের বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

৮. আমি কিভাবে টিকেট সংগ্রহ করবো?

বাসে কোন টিকিট পাওয়া যাবে না। ষ্টেশনে টিকিট বুথ, ভেন্ডিং মেশিন, কিয়োস্ক, পিওএস হতে টিকেট সংগ্রহ করার ব্যবস্থা থাকবে।

৯. টিকেট ছাড়া কি বিআরটি বাসে উঠা সম্ভব?

বিআরটি বাসে আরোহণ করতে হলে পূর্বাহ্ণেই টিকেট সংগ্রহ করতে হবে এবং টিকেট ব্যবহার করে ইলেক্ট্রনিক গেটের মাধ্যমে ষ্টেশন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে হবে। বাসে কোনো টিকেট পাওয়া যাবে না।

১০. পৃথিবীর অন্য কোথাও কি এ ব্যবস্থা রয়েছে?

পৃথিবীর বহুদেশে বিআরটি সিস্টেম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে এ ব্যবস্থা দক্ষিণ আমেরিকা, চীন, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ইন্দোনেশিয়ায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

১১. এ ব্যবস্থায় বাস গুলো পরিচালনা করবে কারা?

বিআরটি সিস্টেম পরিচালনা করার জন্য প্রাইভেট অপারেটর নিয়োগ করা হবে। পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক সিস্টেমটির ব্যবস্থাপনা করার জন্য সরকারি খাতে ঢাকা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানী লিমিটেড নামে একটি কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

১২. এ করিডোরে বর্তমানে চলাচলরত বাসগুলোর চলাচল কি অব্যহত থাকবে?

না; ঐ করিডোরের মূল অংশে যে সকল বাস বর্তমানে চলাচল করছে সেগুলো বন্ধ থাকবে। তবে যে সকল বাস করিডোরের সীমানার বাইরে চলাচল করছে সেগুলোর কিছু কিছুর চলাচল অব্যহত থাকবে। কিছু কিছু বাস ফিডার বাস হিসেবে চলাচল করবে। তবে বর্তমানে চলাচলরত আন্তঃজেলা বাসসমূহের চলাচল অব্যহত থাকবে।

১৩. বর্তমানে আমি করিডোর হতে একটু দূরে থাকি। আমি বিআরটি ষ্টেশনে পৌঁছাবো কি করে?

ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ বিআরটি ষ্টেশন হতে ফিডার সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হবে যাতে যাত্রীগণ তা ব্যবহার করে ষ্টেশনে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া রিকশা, টেম্পো ব্যবহার করে ষ্টেশনে পৌঁছানো যাবে।

১৪. এ বাসে যাতায়াত কি নিরাপদ হবে?

যাত্রীদের নিরাপত্তা এ ব্যবস্থার অন্যতম অনুসংগ। বাসগুলোতে এবং করিডোরে সিসিটিভি সংযোজিত থাকবে যার মাধ্যমে বিআরটি কন্ট্রোল সেন্টার হতে যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করবে।

১৫. এ রাস্তাটি এমনিতেই যানজট প্রবণ। সেক্ষেত্রে বিআরটি-এর জন্য রাস্তার মাঝের দুটি লেন নির্ধারণ করা হলে যানজট পরিস্থিতির উন্নতি হবে কিভাবে?

করিডোরের লেনগুলো পূর্ণবিন্যাসের মাধ্যমে রিক্সা বা অযান্ত্রিক যানের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা থাকায় যানজট কমে আসবে। এছাড়া বিআরটি সিস্টেম প্রবর্তনের ফলে বর্তমানে এ রুটে চলাচলরত বাসগুলোর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার ফলে বাসের সংখ্যা কমে আসবে। সাথে সাথে উন্নতমানের বিআরটি ব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে যারা ব্যক্তিগত কার ব্যবহার করছেন তারাও বিআরটি ব্যবহারে আগ্রহী হবেন।

১৬. অন্য বাসগুলো কি বিআরটি-এর জন্য নির্ধারিত ডেডিকেটেড লেন ব্যবহার করতে পারবে?

না; শুধুমাত্র বিআরটি বাসগুলো ডেডিকেটেড লেনে চলাচল করতে পারবে। অন্য বাসগুলো মিক্সড ট্রাফিকের জন্য যে লেন নির্মাণ করা হচ্ছে সেগুলো ব্যবহার করতে পারবে।

১৭. এ প্রকল্পে কত খরচ হতে পারে?

বর্তমানে এ প্রকল্পের সংশোধিত প্রাক্কলিত মূল্য ৪২৬৮.৪৩ কোটি টাকা।

১৮. এ প্রকল্প অর্থায়ন করছেন কারা?

এ প্রকল্পটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার (জিওবি), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ফরাসী উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি) এবং গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ) এর অর্থায়নে হচ্ছে।

১৯. ষ্টেশনগুলোতে খুচরা কেনাকাটার জন্য কোন ব্যবস্থা থাকবে কি?

ষ্টেশনে টিকেট বুথ ছাড়াও খুচরা কেনাকাটার জন্য আধুনিক ব্যবস্থা সম্বলিত ছোট দোকান বা কিয়োস্কের ব্যবস্থা থাকবে।