বিআরটি এর ইতিহাস

বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) সিস্টেম প্রবর্তনের ইতিহাস

বিশ্বের প্রথম বিআরটি সিস্টেমটি ছিল কানাডার অটোয়ার ওসি ট্রান্সপো সিস্টেম। ১৯৭৩ সালে প্রবর্তিত এ বিআরটি সিস্টেমটির প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল শহরের কেন্দ্রস্থলে ডেডিকেটেড বাস লেন স্থাপন করা। ১৯৮৩ সালে প্রথম এক্সক্লুসিভ বাসওয়ে (“ট্রানজিটওয়ে” নামে পরিচিত) তৈরি হয়েছিলো। ১৯৯৬ সালে ৩১ কিলোমিটার ট্রানজিটওয়ে সিস্টেমটি চালু হয়। পরবর্তীতে যথাক্রমে ২০০৯, ২০১১ এবং ২০১৪ সালে এটির আরও সম্প্রসারণ করা হয়। পরবর্তীতে শহরের কেন্দ্রস্থলের যাত্রী চাহিদা, পরিকল্পিত চাহিদার চেয়ে বেশী হওয়ার কারণে ট্রানজিটওয়ের এ কেন্দ্রীয় অংশটিকে ২০১৭ সালে একটি লাইট রেল ট্রানজিটে রূপান্তর করা হয়।

বিশ্বের দ্বিতীয় বিআরটি সিস্টেমটি ১৯৭৪ সালে ব্রাজিলের কুরিটিবাতে নির্মিত হয়েছিল। বিআরটি-র এ সিস্টেমের সাথে যুক্ত হওয়া বেশিরভাগ বৈশিষ্ট্যই ইনোভেটিভ আইডিয়া হিসেবে কুরিটিবার মেয়র স্থপতি জাইম লার্নার সংযোজন করেছিলেন। ১৯৮০ সালে কুরিটিবা সিস্টেমে ফিডার বাস নেটওয়ার্ক এবং ইন্টার-জোন কানেকশন সংযুক্ত করে এবং ১৯৯২ সালে বাসের বাইরে অর্থাৎ বাসে উঠার আগেই ভাড়া সংগ্রহ, আবদ্ধ স্টেশন এবং উঁচু প্ল্যাটফর্মে লেভেল বোর্ডিং ব্যবস্থা প্রচলন করেছিলেন।

২০০০ সালে কলম্বিয়ার বোগোতায় ট্রান্সমিলেনিও নামে প্রথম বিআরটি সিস্টেম চালু হয়, যা অন্যান্য বিআরটি-র সেরা ও সফল বৈশিষ্ট্যগুলো সন্নিবেশ ঘটিয়ে বিশ্বের সর্বাধিক ক্ষমতাসম্পন্ন এবং সর্বোচ্চ গতির বিআরটি সিস্টেম প্রবর্তন করেছিল। ট্রান্সমিলেনিও-র সাফল্য অন্যান্য শহরগুলিতে উচ্চমানের বিআরটি সিস্টেম প্রবর্তনে উদ্বুদ্ধ করেছিল। জানুয়ারী, ২০০৪-এ ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় এশিয়ায় প্রথম বিআরটি, ট্রান্সজাকার্তা চালু হয়। ২০১৫ সাল নাগাদ জাকার্তায় চালু হওয়া ২১০ কিলোমিটার (১৩০ মাইল) বিআরটি-টি বর্তমানে বিশ্বের দীর্ঘতম বিআরটি সিস্টেম।

 

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় 'ট্রান্সজাকার্তা' হচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম বিআরটি যার দৈর্ঘ্য ২৫১.২ কি.মি.

 

বিআরটি-র প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহঃ -

ডেডিকেটেড লেন এবং এলাইনমেন্টঃ বিআরটি চলাচলের জন্য ডেডিকেটেড লেনের ব্যবস্থা থাকায় বাসগুলো নির্বিঘ্নে দ্রুত চলাচল করে এবং মিক্সড ট্র্যাফিক দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয় না।

অফ বোর্ড ভাড়া সংগ্রহঃ বাসে উঠার পূর্বেই টিকিট সংগ্রহ করতে হয় বিধায় যাত্রীগণ দ্রুত বাসে আরোহণ করতে পারে।

ইন্টারসেকশান ব্যবস্থাপনাঃ ইন্টারসেকশান ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিআরটি বাস লেনে বিপরীতমুখী রাস্তার অন্যান্য যান চলাচলে সৃষ্ট বাধা মোকাবিলা করা হয়। এ ক্ষেত্রে বিআরটির জন্য “রেড ফেজ” কমিয়ে “গ্রীন ফেজ” বাড়িয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। 

প্ল্যাটফর্ম লেভেল বোর্ডিংঃ ষ্টেশন প্ল্যাটফর্মগুলোর উচ্চতা বাস ফ্লোরের উচ্চতার সমান করা হয় যাতে যাত্রীদের বাসে আরোহণ ও নির্গমন, হুইলচেয়ার ও শিশুদের স্ট্রলার উঠানো নামানো দ্রুত এবং সহজতর হয়।

বিআরটির অন্যান্য বৈশিষ্ট্যসমূহঃ -

উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন যানবাহনঃ সাধারণতঃ দ্রুত প্রবেশ ও নির্গমনের জন্য বাসে একাধিক ও চওড়া দরজার ব্যবস্থা থাকে। নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য উচ্চধারণক্ষমতাসম্পন্ন যানবাহন, যেমন - আর্টিকুলেটেড এমন কি বাই- আর্টিকুলেটেড বাস ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া দ্বিতল বাস অথবা গাইডেড বাসও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

উন্নতমানের বিআরটি স্টেশনঃ উন্নতমানের বিআরটি সিস্টেমের ষ্টেশনগুলো সাধারণতঃ আবদ্ধ এবং শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে যেখানে স্লাইডিং গ্লাস ডোর, টিকিট বুথ, ইনফরমেশন বুথ এবং অন্যান্য সেবার ব্যবস্থা থাকে। এগুলোতে প্রায়শই স্বল্প উচ্চতার বাস দিয়ে বা বেশী উচ্চতার বাসের জন্য উচ্চ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দ্রুত যাত্রী উঠানামার জন্য একাধিক দরজা এবং প্রতিবন্ধী যাত্রীদের সুগম্যতা বাড়িয়ে লেভেল বোর্ডিং-এর ব্যবস্থা নেয়া হয়।

বিশিষ্ট ব্র্যান্ড বা ব্র্যান্ড আইডেন্টিটিঃ বিআরটি সিস্টেমের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ও আলাদা পরিচিতি, নির্ধারিত স্টপেজ, স্টেশন এবং উন্নতমানের দ্রুতগামী বাসবহর বিআরটি-কে প্রাইভেট কার ব্যবহারের আকর্ষণীয় বিকল্প হিসেবে তৈরি হতে সহায়তা করে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বিআরটি সিস্টেম রেদে-ইন্টেগ্রাদে-দে-ট্রান্সপোর্টে, কুরিটিবা, ব্রাজিল এ চালু হয়েছিল ১৯৭৪ সালে